সুরুচি সঙ্ঘের ক্লাবঘরে তাণ্ডব! ক্লাবের সচিব স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে দিতে ভাঙচুর ও লুটপাট
বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি এবং খুনের হুমকির অভিযোগ করেছিলেন টালিগঞ্জের এক রূপটান শিল্পী। স্বরূপের গ্রেফতারির পর টলিপাড়ার বড় অংশই তোলাবাজি, ভীতি প্রদর্শন, গা-জোয়ারি ইত্যাদি অভিযোগ করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে।নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘ’-এর সচিব স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর ক্লাবে ভাঙচুর চালাল একদল লোক। বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার আলিপুরে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপের নামে স্লোগান ওঠে। সুরুচি সঙ্ঘের হোর্ডিং, পোস্টার ইত্যাদি ছিঁড়ে ফেলা হয়।
কলকাতার বারোয়ারি দুর্গা পুজো যে ক্লাবগুলি করে, তাদের মধ্যে অন্যতম নাম সুরুচি সঙ্ঘ। ক্লাবের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম নাম প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ। স্বরূপ ছিলেন সচিব। পুজোর উদ্বোধন করতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুরুচির দুর্গাপুজো মানেই পূর্বতন শাসকদলের প্রভাবশালীদের ভিড় দেখা যেত। গত বছর স্বরূপ-অরূপদের পুজোর থিমের নাম ছিল ‘আহুতি’। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি মণ্ডপটি গড়া হয়েছিল সেলুলার জেলের আদলে। সেই ক্লাবের অন্যতম উদ্যোক্তার গ্রেফতারির পরের দিন তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়েরা। ক্লাবের কর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিকেলেই স্বরূপদের ক্লাবে ঢুকে যান এলাকার কয়েক জন যুবক। তাঁরা ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে দিতে ক্লাবের ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র ঘাঁটতে থাকেন। কেউ ক্লাবের ভিতর থেকে নতুন শাড়ি ‘উদ্ধার’ করেন কটাক্ষ করেন স্বরূপকে। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) এক জনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘মিক্সিটা নিয়ে নে।’’
তাণ্ডবের সময় প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ এবং তাঁর ধৃত ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ করেন ওই যুবকেরা। পরে ক্লাবের ভিতরে একটি খাট মেলে। তা নিয়ে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ টানেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘ক্লাবে অশালীন, অবৈধ কার্যকলাপ হত।’’
