অনুপ্রবেশকারী সরকারের জন্য বাংলা নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলতে পারে’! ঝাড়গ্রামের সভায় বলছেন মোদী
অনুপ্রবেশকারী সরকারের জন্য বাংলা নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলতে পারে’! ঝাড়গ্রামের সভায় বলছেন মোদী
তৃণমূল আপনাদের অধিকার কাড়ে। রেশন, আবাস সব কেড়ে নেয়। মোদীর গ্যারান্টি, বিজেপি দেবে। ঘর তৈরির জন্য দেড় লক্ষ টাকা দেবে। পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দেবে। সার্ভিক্স ক্যানসার রোখার টিকা দেবে। বিজেপি সুবিধা, কর্মসংস্থান দেবে। আবার অর্থ সাশ্রয় করাবে।’’
মহিলা-বিরোধী’!
‘‘তৃণমূলের দুর্নীতি থএকে সাবধান করতে চাই। মা-মাটি-মানুষের কথা বলে এসেছিল। তৃণমূল মাদের ধোঁকা দিয়েছে। বিজেপি চেষ্টা করেছিল, মহিলারা যাতে ২০২৯ সালের নির্বাচনে সংরক্ষণের সুবিধা পায়। কিন্তু মহিলা বিরোধী তৃণমূল করতে দেয়নি। সংসদে বিরোধিতা করেছে। যাতে বাংলার ৩৩ শতাংশ মহিলা বিধায়ক, সাংসদ হতে না পারে। তৃণমূলকে সাজা দিন!’’
‘‘মহিলারা যাতে নিরাপত্তা পান, কর্মসংস্থান হয়, বিজেপি গ্যারান্টি দিতে চায়। বছরে ৩৬ হাজার দেবে বিজেপি। মেয়েদের স্নাতক পড়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেবে। সুকন্যা সমৃদ্ধি দেবে। লাখপতি দিদি করতে চায়। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য করা হবে।’’
তৃণমূল সাহায্য করে না’!
‘‘বনধন কেন্দ্রের বিস্তার হবে, তাতে জনজাতি বোনদের রোজগার বাড়বে। ঝাড়গ্রাম অরণ্যসুন্দরী। এখানে হোম স্টে, ইকো টুরিজম বাড়বে। রেল সংযোগ বাড়াতে কেন্দ্র উদ্যোগী হয়েছে। বন্দে ভারত এবং আট অমৃত ভারতের সঙ্গে জোড়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের দ্রুত কাজের জন্য রাজ্য সরকারের সাহায্য দরকার। কিন্তু তৃণমূল কিছু করে না। তাই এখানে বিজেপির বিধায়কদের আনতে হবে। মা সাবিত্রী, কনকদুর্গাকে প্রণাম।’’
কৃষকদের জন্য সুবিধা
‘‘বাংলার মান্ডি থেকে তৃণমূলের সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে। আলু চাষি, ধান চাষিদের শোষণ বন্ধ করব। ৩১০০ টাকা এমএসপি ঘোষণা করেছে ধানচাষিদের জন্য। পিএম কিষাণ সম্মাননিধির জন্য ৬০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের আগে দেশে কংগ্রেসের সরকার ছিল। তৃণমূল ভাগীদার ছিল। এমএসপি ছিল ৮ বা ১০। এখন প্রায় ১০০ দিচ্ছে আমাদের সরকার। গ্যারান্টি দিচ্ছি, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়ের মতো বাংলার জনজাতি পরিবার সুবিধা পাবে। কেন্দুপাতা, শালাপাতা উৎপাদনে যারা জড়িত, তাদের লাভ হবে।’’
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে’!
‘‘আপনাদের ভাল স্কুল থেকে বঞ্চিত করেছে তৃণমূল সরকার। বাকি দেশে, বিশেষত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় একলব্য মডেল স্কুল হচ্ছে। বাকি এলাকায় পিএম শ্রী স্কুল হচ্ছে। ’’
‘তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ পরিবার সোলার প্যানেল যোজনার সুবিধা পায়। আমার সঙ্গীদের বিজয়ী করুন। মোদী গ্যারান্টি দিচ্ছে, আপনাদের প্রতি ঘরে ৮০ হাজার টাকা চলে যাবে। এখানে বিজেপির সিএম আনুন। বিদ্যুতের বিল থেকে মুক্তি পাবেন।’’
তৃণমূলের মন্ত্রী, যাঁরা লুটে শামিল, হিসাব হবে। এক দিকে, তৃণমূল বিদ্যুৎ লুট করছে। অন্য দিকে মোদী আপনাদের বিদ্যুতের বিল শূন্য করতে চায়। এই জন্য যোজনা কার্যকর করা হয়ে গিয়েছে— পিএম সূর্যগড় মুক্ত বিজলি যোজনা। একটি পরিবার প্রায় ৮০ হাজার টাকা করে পাবে। যাতে আপনারা ছাদে সোলার প্যানেল লাগাতে পারেন, নিজের বিদ্যুৎ নিজে তৈরি করতে পারেন। কিন্তু তৃণমূল এই যোজনা বাংলায় আনতে দিচ্ছে না। ওড়িশায় ৬০ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে। ’’
আপনারা অন্ধকারে রয়েছেন। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের গাড়ি চমকাচ্ছে। আপনাদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। মোদী সঙ্কল্প করেছে, এখানকার কয়লা লুটকারীদের, আপনাদের যাঁরা অন্ধকারে রাখে, তাঁদের ছাড়ব না। ওদের হিসাব করা হবে। তৃণমূলে সকলের নম্বর আসবে, মোদীর গ্যারান্টি।’’
ছোট ঘর তৈরি করতে হলেও তৃণমূলের সিন্ডিকেটের উপরে নির্ভর করতে হয়। তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়কেরা আপনাদের সমস্যা নিয়ে ভাবে না। এরা শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবে। শতাধিক একর জমিতে কব্জা করেছে। এক বার বিদ্যুৎ গেলে অনেক দিন পরে আসে। কখনও আসেই না বিদ্যুৎ। তবে বিল আসে! কারণ, তৃণমূলের সিন্ডিকেট বাংলায় বিজেপির কারখানা নষ্ট করেছে।’’
‘আপনারা তৃণমূল সরকারকে ১৫ বছর দিয়েছেন। তৃণমূলের নির্মম সরকার কী দিল? কী পেলে? জনজাতি ক্ষেত্রগুলি কী পেল? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, কিছু পায়নি। সব বেহাল এখানে।’’
‘‘বিজেপি বিকাশ, উত্তরাধিকারের জন্য সমর্পিত। আমাদের সরকার প্রাণপ্রিয় বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষা ঘোষণা করেছে। সাঁওতালি ভাষায় ভারতীয় সংবিধানের সংস্করণ প্রকাশ করেছে। কুড়মালি ভাষা নিয়েও ঘোষণা করেছে। বিজেপি বাংলার এই ঐতিহ্য নিয়ে কতটা গর্বিত, তা স্পষ্ট।’’

