মালদহ কাণ্ডে ‘নির্দোষদের’ ধরা হচ্ছে! কমিশনকে তোপ মমতার, ধৃতের ‘তৃণমূল-ঘনিষ্ঠতার’ খোঁচা বিজেপির, অনুসন্ধান কোন পথে?

0

মালদহের কালিয়াচকের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিয়ে মমতা সাবধান করে দেন সাধারণ মানুষকে। বিচারকদের ঘেরাও করার নেপথ্যে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব উস্কে দেন তিনি। অন্য দিকে, বিজেপি-ও ধৃতের ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ নিয়ে পাল্টা বিঁধতে শুরু করেছে তৃণমূলকে।

মালদহ কাণ্ডে প্রকৃত অভিযুক্তদের না ধরে ‘নির্দোষদের’ গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এমনটাই অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের পর শনিবার ফের একবার তিনি তুলে ধরলেন ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব। অন্য দিকে, বিজেপি আবার ধৃতের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে পাল্টা বিঁধছে তৃণমূলকে। পদ্মশিবিরের দাবি, ধৃত তৃণমূলেরই ‘ঘনিষ্ঠ’। এই রাজনৈতিক আক্রমণ এবং প্রতিআক্রমণের মাঝে মালদহে অনুসন্ধান চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-ও।

মালদহের মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে বিচারকদের ঘেরাও এবং ‘তাণ্ডব’ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এরই মধ্যে শনিবার মালদহের তিন প্রান্তে তিনটি জনসভা করলেন মমতা— মানিকচক, মালতিপুর এবং গাজোলে। পরে একটি মিছিলও করেন তিনি। শনিবারের নির্বাচনী প্রচারসভাগুলি থেকে ফের বিচারকদের ঘেরাওয়ের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। তুলে ধরেন ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব। মালদহ কাণ্ড নিয়ে জনতাকে সতর্কও করে দেন তিনি।

মোথাবাড়ির ঘটনায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে শনিবারই পাকড়াও করা হয়েছে দুই স্থানীয় বাসিন্দাকে। সাম্প্রতিক গ্রেফতারিগুলির প্রসঙ্গে মানিকচকের সভা থেকে কমিশনকে নিশানা করেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “যারা দোষ করেছে, তাদের গ্রেফতার করোনি। নির্দোষদের গ্রেফতার করছ কেন?” সরাসরি কমিশনের নামোল্লেখ করেননি মমতা। তবে রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। এই সময়ে বকলমে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকে কমিশনের হাতেই।

একই সঙ্গে মালদহের সাধারণ জনতাকেও সতর্ক করে দেন মমতা। মালদহের কালিয়াচকে যে ঘটনা ঘটেছে, তার যাতে কোনও পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিয়ে সাবধান করে দেন জনতাকে। বিচারকদের ঘেরাও করার নেপথ্যে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব উস্কে দিয়ে সাধারণ জনতাকে এ সবের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তৃণমূলনেত্রী। ধরপাকড়ের সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও যে পাকড়াও করা হচ্ছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। মমতা বলেন, “জাজেদের কাছে নিজেরা যাবেন না। দু’টো দল এসে জাজেদের ঘেরাও করে পালিয়ে গেল। মাঝখান থেকে স্থানীয় ছেলেমেয়েরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এনআইএ-র নাম করে ৪০-৫০ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।’’

কালিয়াচকে যে ঘটনা ঘটেছে, তা যাতে অন্য কোথাও না ঘটে সে বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দারাই যে সমস্যায় পড়বেন, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন মমতা। মোথাবাড়িতে গ্রেফতারির কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, “অশান্তির মধ্যে যাবেন না। এলাকা থেকে ৪০ জন ছেলেকে তুলে নেবে। যেটা মালদহে করেছে।”

ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে গোলমাল পাকানোর জন্য ভিন্‌রাজ্য থেকে সমাজবিরোধীদের এ রাজ্যে ঢোকানো হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন তিনি। মানিকচকের সভা থেকে তিনি বলেন, “দেখবেন ট্রেনে, বাসে করে যেন গুন্ডা না ঢোকে। বাইরে থেকে কারা আসছে, কোন হোটেলে থাকছে, দেখবেন। টাকা আমদানি হচ্ছে বাইরে থেকে। কেন্দ্রীয় সরকার এর সঙ্গে যুক্ত। এজেন্সিকে দিয়ে এ সব করছে। আমি ভয় পাইনি। আপনারাও পাবেন না।” পরে গাজোলের সভা থেকেও এ নিয়ে মন্তব্য করেন মমতা। নাকা চেকিং কতটা গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন মমতার। তাঁর অভিযোগ, কেউ বিজেপি করলে তাঁকে নাকা চেকিংয়ের সময়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *