মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিক্ষোভ, কালো পতাকা! মন্দির থেকে বেরিয়ে কী বললেন জ্ঞানেশ
মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিক্ষোভ
রবিবার রাতে কলকাতায় এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার থেকে রাজ্য প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা। তার আগে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন জ্ঞানেশ।পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেই কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল। জ্ঞানেশকে ঘিরে ধরে এক দল বিক্ষোভকারী কালো পতাকা দেখালেন। উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। বিক্ষোভ নিয়ে কোনও মরবিবার রাতে কলকাতায় এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার থেকে দফায় দফায় রাজ্য প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা। তার আগে সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন জ্ঞানেশ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালও। তাঁদের পৌঁছোনোর আগে থেকেই মন্দিরের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। কালো পতাকা হাতে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলছিলেন অনেকে। অভিযোগ, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে অযথা অনেকের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সামনেই কমিশনের বিরুদ্ধে এবং এসআইআর-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিক্ষোভকারীরা।
জ্ঞানেশ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দিয়েই মন্দিরে প্রবেশ করেন। সেই সময় কোনও মন্তব্য করেননি। মন্দির থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বলেন কেবল দু’টি বাক্য— ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সকল ভাইবোনকে আমার নমস্কার। কালী মা সকলকে ভাল রাখুন।’’ বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও কোনও মন্তব্য করতে চাননি কমিশনার। গাড়িতে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর পাড়া ছাড়েন তিনি।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, কালীঘাটের মন্দিরে পুজো দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মঙ্গলকামনা করেছেন জ্ঞানেশ। রাজ্যে স্বাধীন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেছেন, ‘‘এ বার শুধু নির্ভয় নির্বাচনের পর্ব হবে।’’
রাজ্যে তিন দিনের সফরে এসেছেন জ্ঞানেশরা। ফুল বেঞ্চের সঙ্গে রয়েছেন আরও দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশীও। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হবে। এর পর প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশপ্রধান-সহ অন্য শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন। কালীঘাটের পাশাপাশি বেলুড় মঠেও যেতে পারেন জ্ঞানেশ।
জ্ঞানেশ অবশ্য শহরে পা রেখেই বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন। রবিবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিউটাউনের হোটেল পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। দেখানো হয় কালো পতাকাও। তৃণমূল এবং বাম কর্মী-সমর্থকেরা পৃথক ভাবে বিক্ষোভ দেখান। বামেদের বিক্ষোভ থেকে ‘নো ভোটার্স, নো ভোট’ স্লোগানও ওঠে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন। বলেন, ‘‘ওটা অসভ্য, বর্বরদের পার্টি। তাদের কাজ তারা করছে। একটু আগে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর নিয়ে বলেছে, ‘আমাদের তো আরও কাজ আছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়’। অর্থাৎ, সকলেই বিরক্ত। মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সরকার এবং তাঁর দলের আচার-আচরণে সকলে বিরক্ত। তার অভিব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মুখ থেকেও শুনতে পাওয়া গেল।’’

ন্তব্যই করতে চাননি জ্ঞানেশ। মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন।
