দোলে ‘রংবাজি’ করুক ছোটরা, শুধু চোখ বাঁচিয়ে, সে জন্য কী ভাবে সতর্ক হবেন জেনে নিন বাবা-মায়েরা
দোলে ‘রংবাজি
রং খেলুন। কিন্তু সাবধান। চোখে রং ঢুকলে ভাল মতো ভুগতে হয়। ছোটদেরও সাবধানে রাখুন। রাসায়নিক মেশানো রং শুধু নয়, আবির নিয়েও সন্দেহ আছে আজকাল। দোল উৎসবকে আনন্দে ভরিয়ে দিতে হলে, নিজের ও কাছের মানুষদের সুস্থ থাকাটা খুব জরুরি।বছরে একবারই তো দোল আসে। রঙের উৎসবে ছোটদের আনন্দই বেশি। দোলের অনেক আগে থেকেই পিচকারি, নানা রকম রং কেনার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। তাই দোলের দিন ‘রংবাজি’ স্বাগত, তবে চোখ বাঁচিয়ে। আবির আর রঙে একে অপরকে রাঙিয়ে দিতে গিয়ে চোখের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেটিই দেখার। দোলের রঙে থাকা রাসায়ানিকের প্রভাবে চোখের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। শুধুমাত্র কলকাতা শহরেই দোলের দিন বহু মানুষ লাল টকটকে চোখ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান। কলকাতা ও শহরতলির চোখের হাসপাতাল আর ক্লিনিকে চোখের কষ্ট নিয়ে ভিড় উপচে পড়ে। অথচ একটু সতর্ক থাকলে এই বিপদ প্রতিরোধ করা যায় সহজেই। ছোটদের জন্য তাই অভিভাবকদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে আগে থেকে।
কর্নিয়া পুড়তে পারে রঙের জ্বালায়
দোকানে এখন যে সব রং পাওয়া যায়, তার বেশির ভাগই রাসায়নিকে ঠাসা। ভেষজ বলে যে রং হাতে ধরিয়ে দেন দোকানি, তা-ও কি খুব সুরক্ষিত? চিকচিকে দানাদার রঙে গিজগিজ করে রাসায়নিক। আর সে সব কোনও রকমে যদি চোখে সেঁধিয়ে যায়, তা হলেই বিপদ। যেমন, লাল রঙে থাকা মার্কারির যৌগ চোখে গেলে চোখ ফুলবে, ব্যথা হবে। সবুজ রঙে থাকা কপার সালফেটের প্রভাবে চোখে ভয়ানক সংক্রমণ হতে পারে। উজ্জ্বল হলুদ রঙে থাকা লেডের মতো ভারী ধাতু চোখের স্নায়ু নষ্ট করে দিতে পারে। নীল রঙে আছে প্রাশিয়ান ব্লু, যে কারণে চোখ কড়কড় করে। চক্ষুরোগ চিকিৎসক সৌমেন মণ্ডলের কথায়, “দোলের পরে চোখের বিভিন্ন অংশে কেমিক্যাল বার্নের ঘটনা ঘটে। জোরে ছোড়া বেলুন বা পিচকারি থেকে বেরোনো রং চোখে লাগলে, চোখের সংবেদনশীল অংশ ঝলসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অভ্র ও ভারী ধাতু মিশ্রিত রং বা আবিরের কারণে কর্নিয়ার ‘এপিথেলিয়াল টিস্যু’ উঠে যেতে পারে। তখন চোখ জ্বালা করবে, লাল হয়ে যাবে, অনবরত জল পড়তে থাকবে। ছোটরা রং খেললে তাই বড়দের দেখতে হবে, কোনও ভাবেই যাতে রং চোখের ভিতরে ঢুকে যেতে না পারে।”

