শহরে বাড়ছে হকারের দখলদারি, ভোটের পরে পদক্ষেপ করতে নজরদারি শুরু পুরসভার
শহরে বাড়ছে হকারের দখলদারি, ভোটের পরে পদক্ষেপ করতে নজরদারি শুরু পুরসভার
আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে। ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে তারপরেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে চায় কলকাতা পুরসভা। তাই এখন থেকেই এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ সেরে রাখছেন আধিকারিকেরা।শহরে ফের বাড়ছে হকারদের দখলদারি। সম্প্রতি এমনটাই অভিযোগ পেয়েছে কলকাতা পুরসভার হকার বিভাগ। বিশেষ করে কলকাতার ব্যস্ততম এলাকা বলে পরিচিতবার্ট্রাম স্ট্রিট, হুমায়ুন প্লেস, জওহরলাল নেহরু রোডের গুরুত্বপূর্ণ অংশেও হকারদের দখলদারি ক্রমশ বাড়ছে বলেই অভিযোগ। পাশাপাশি ওবেরয় গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে পথচারীদের চলাচলের জন্য পুলিশ যে আলাদা করিডর তৈরি করেছিল, বর্তমানে সেই অংশই ধীরে ধীরে হকারদের কব্জায় চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এমন সব অভিযোগ পেয়ে নজরদারি শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে। ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে তারপরেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে চায় কলকাতা পুরসভা। তাই এখন থেকেই এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ সেরে রাখছেন আধিকারিকেরা।কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের ব্যস্ততম এলাকায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিনই নতুন নতুন হকার এসে বসছেন, বিশেষ করে খাবারের দোকানগুলির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে যে জায়গাটি মূলত পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল, সেখানে এখন চলাফেরা করাই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। পথচারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাথ ছেড়ে রাস্তায় নেমে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। ভোটের সময় কলকাতা পুলিশের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। আগে যেসব জায়গা পার্কিংয়ের জন্য খালি করা হয়েছিল, সেগুলিও ফের হকারদের দখলে চলে গিয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তখন পার্কিং জোন কার্যত অস্থায়ী বাজারে পরিণত হচ্ছে।এলাকাগুলিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অভিযোগ, উচ্ছেদের পরই ফের পুরনো জায়গায় ফিরে এসে হকাররা ব্যবসা শুরু করেছেন। এ ভাবে যত্রতত্র হকারদের দখলদারি যে শহরের পক্ষে ভাল নয় তা মেনে নিচ্ছেন হকার সংগঠনের নেতারা। তবে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ কোনও হকার নেতা। তবে নাম না জানানোর শর্তে এক প্রবীণ হকার নেতা বলেন “পথচারীদের জন্য নির্ধারিত করিডর দখল করা ঠিক নয়। আমরা হকারদের অধিকারকে সমর্থন করি, কিন্তু রাস্তা বা যান চলাচলের জায়গা দখল করা উচিত নয়।” অন্যদিকে, পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং টাউন ভেন্ডিং কমিটির নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করা হবে। তবে বর্তমানে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।’’

