রাজ্যসভার প্রার্থী বাছাইয়ে শিকে ছিঁড়ল ‘আদি’ নেতার, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাহুল সিংহকে মনোনয়ন, বিহার থেকে ‘নবীন’ নিতিন
রাজ্যসভার প্রার্থী বাছাইয়ে শিকে ছিঁড়ল ‘আদি’ নেতার, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাহুল সিংহকে মনোনয়ন, বিহার থেকে ‘নবীন’ নিতিন
রাহুল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। পরে জাতীয় সম্পাদক হয়েছিলেন। তবে গত কয়েক বছর তিনি দলের কোনও পদে ছিলেন না। তাঁকে জাতীয় সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে অনুপম হাজরাকে ওই পদ দেওয়ার পর নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখও খুলেছিলেন।রাজসভা নির্বাচনে আদি বিজেপিকেই গুরুত্ব দিলেন নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল সিংহ। মঙ্গলবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে ছ’টি রাজ্যের মোট ন’টি রাজ্যসভা আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে নিতিন নবীনেরও।রাহুল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। পরে জাতীয় সম্পাদক হয়েছিলেন। গত কয়েক বছর তিনি বিজেপির কোনও পদে ছিলেন না। তাঁকে জাতীয় সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে যখন অনুপম হাজরাকে ওই পদ দেওয়া হয়েছিল, তখন নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখও খুলেছিলেন রাহুল। তবে দল ছাড়েননি। শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর থেকে দলে তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠনে রাহুলের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র সভায় রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রধান বক্তা হিসাবে পাঠানো হচ্ছিল রাহুলকে। এ বার রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষিত হল। তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করার পর রাহুলের মন্তব্য, ‘‘হোলি মানে অশুভের পতন এবং শুভের সূচনা। আজ আমাদের দলের কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা গেল যে, দল সকলের উপরেই নজর রাখছে। দল কাউকে ভোলেনি। আমার এই দায়িত্ব পাওয়ার খবরে তাঁদের কাছে এই বিশেষ বার্তা গেল বলে আমি মনে করি।’’
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটি আসনে বিধানসভার যা বিন্যাস, তাতে তৃণমূলের চারটি এবং বিজেপির একটি আসনে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যসভায় পৌঁছোনোর কথা। তৃণমূল চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। বিজেপিও একজন প্রার্থীর নামই জানাল। ফলত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন রাহুল। এর আগে তিনি বেশ কয়েক বার লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু কোথাও জয়ী হননি। বড় কোনও অঘটন না-হলে এ বারই প্রথম বার জনপ্রতিনিধি হতে চলেছেন বিজেপির রাহুল।
বিজেপি সূত্রে খবর, এ রাজ্য থেকে কাকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হবে, সেই সংক্রান্ত আলোচনায় অন্তত ন’টি নাম উঠে এসেছিল। রাজ্য নেতৃত্বের পছন্দ, আরএসএসের মতামত, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনাপত্তি— এই সব কিছু মাথায় রেখে নাম চূড়ান্ত করার আলোচনা এগোচ্ছিল। রাজ্যসভার প্রার্থী স্থির করতে দফায় দফায় বৈঠক করছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরা। অবশেষে রাহুলের নামেই সিলমোহর পড়ে।
এ বারের রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি। কারণ, এর আগে দিল্লির পছন্দ অনুযায়ী নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে বিজেপিকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। কখনও কোচবিহারের জন্য পৃথক রাজ্যের তকমা দাবি করে অনন্ত দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, কখনও তৃণমূলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে হাজির হয়েছেন। প্রতি বারই অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। কারণ, অনন্ত তাঁদেরই পছন্দের প্রার্থী হিসাবে রাজ্যসভায় গিয়েছেন। এ বার তাই রাজ্য নেতৃত্বের মতামতকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রাহুলের নাম ঘোষিত হতেই তা আরও স্পষ্ট হল। রাহুলের নিজের মত, দলের ভিতরে অনেকে অনেক সময় নিজেকে বঞ্চিত মনে করেন। তিনি ভাবতে পারেন যে, তাঁর অমুক পদ পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দল জানে, কখন কাকে কোন পদ দিতে হবে। তাঁকে মনোনীত করাও বিজেপির তেমনই এক সিদ্ধান্ত। রাজ্য বিধানসভা ভোটে বিজেপি জিতবেই, এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে রাহুলের মন্তব্য, ‘‘দু’-আড়াই মাসের বেশি সংসদে বাংলার কথা তুলে ধরতে পারব না। কারণ, এর পর অগণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে বাংলায় নতুন সরকার আসবে। তখন রাজ্যের মানুষের বেদনা, যন্ত্রণা সমাপ্ত হবে। তাই বাংলার কথা তুলে ধরতে না-পারলেও রাষ্ট্রীয় ভাবে নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে চমকপ্রদ কাজ করছে, যাকে বিরোধীরা খাটো করার চেষ্টা করছে, সেই বিষয়গুলি তুলে ধরব। আর আমি একা নই, এখান থেকে আমার সঙ্গে শমীকও (ভট্টাচার্য) আছে।’’অন্য দিকে, গত ডিসেম্বরে নিতিনকে বিজেপির কার্যনির্বাহী সর্বভারতীয় সভাপতি করা হয়। গত ২০ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব নেন। তার আগে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিহারের পটনার বাঁকিপুর বিধানসভা থেকে জয়ী হন নবীন। এখন তিনি বিধায়ক। কিন্তু সর্বভারতীয় সভাপতি হিসাবে এখন তাঁকে দিল্লিতেই অধিকাংশ সময় কাটাতে হয়। অতএব বিহার বিধানসভায় সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন। সর্বভারতীয় সভাপতির জন্য কোনও রাজ্যের আইনসভায় থাকার চেয়ে দেশের আইনসভার সদস্য হওয়া বেশি মানানসই বলে মনে করেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাই নিতিনকে বিহার থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হল। বিহারের দু’টি আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। দ্বিতীয় জনের নাম শিবেশ কুমার। এ ছাড়া অসম এবং ওড়িশার জন্য দু’জন, হরিয়ানা এবং ছত্তীসগঢ়ের জন্য এক জন করে রাজ্যসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। অসম থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তেরশ গোয়ালা এবং যোগেন মোহনকে। এ ছাড়া ছত্তীসগঢ় থেকে লক্ষ্মী বর্মা, হরিয়ানায় সঞ্জয় ভাটিয়া, ওড়িশায় মনমোহন সামল ও সুজিত কুমার বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী হয়েছেন।

