১২ জুন, দুপুর ১টা ৩৯, গত বছর আজকের দিনেই অহমদাবাদে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান! চূড়ান্ত রিপোর্ট অধরাই
অহমদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার পর এক বছর পেরোল। গত বছর আজকের দিনেই দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে গুজরাতের অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান এআই১৭১। রানওয়ে ছাড়ার ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানবন্দরের কাছে মেঘানিনগরে ভেঙে পড়েছিল
০২৫ সালের ১২ জুন। ঘড়িতে দুপুর ১টা ৩৮। গুজরাতের অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান এআই১৭১। রানওয়ে ছাড়ার ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানবন্দরের কাছে মেঘানিনগরে ভেঙে পড়েছিল বিমানটি। বিমানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি থাকার কারণে ভেঙে পড়ার পরেই আগুন ধরে যায় তাতে।এই বিমান দুর্ঘটনায় যাত্রী, বিমানকর্মী-সহ মৃত্যু হয়েছিল মোট ২৬০ জনের। অবিশ্বাস্য ভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন এক জন, ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাসকুমার রমেশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ১১এ আসনে বসেছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর বিমানের ধ্বংসস্তূপের কাছ থেকে বেরিয়ে হেঁটে হেঁটেই অ্যাম্বুল্যান্সে উঠতে দেখা গিয়েছিল রমেশকে। কী ভাবে বেঁচে গেলেন, তা নিজেও বলতে পারেননি রমেশ। এক বছরে শরীরের ক্ষত অনেকটা মিলিয়ে গেলেন আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি রমেশের।এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানেই ছিলেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিজয় রূপাণী। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁরও। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় অন্য যাত্রীদের মতোই তাঁর দেহ আলাদা করে চিহ্নিত করার উপায় ছিল না। শেষমেশ ডিএনএ পরীক্ষার পর গুজরাতের প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রীর দেহ শনাক্ত করা হয়। বিজয়ের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গিয়েছিল, লন্ডনে কন্যার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন তিনি। ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন রূপাণী।গত বছরেই অহমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। ককপিটে শেষ মুহূর্তে পাইলটদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয় ওই রিপোর্টে। বলা হয়, বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জ্বালানির সেই সুইচগুলি ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’-এ চলে গিয়েছিল। তার ফলে দু’টি ইঞ্জিনের কোনওটিতেই পর্যাপ্ত জ্বালানি পৌঁছোয়নি। ফলে বিমান উড়তে পারেনি।দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি চালাচ্ছিলেন ক্যাপটেন সুমিত সবরওয়াল। সহযোগী হিসাবে ছিলেন ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দর। অন্তর্বর্তী রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমান রানওয়ে ছাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এক জন আর এক জনকে ভয়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘‘কেন জ্বালানির সুইচ বন্ধ করে দিলে?’’ অন্য জন উত্তরে বলেছিলেন, ‘‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’’ কোনটি কার কণ্ঠ, রিপোর্টে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ককপিটে সাধারণ ভাবে পাইলটদের অবস্থান বিবেচনা করে অনেকেই দাবি করেন, সুইচ বন্ধের কথা বলা হয়েছিল ক্যাপটেন সুমিতকেই।
