তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে ‘বিদ্রোহ’! জাহাঙ্গিরকে উপলক্ষ করে নিশানা অভিষেককে, দলে খোলা হাওয়া চান কুণাল

0

মঙ্গলবারের বৈঠকে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল, উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন। এমনটাই বলছে সূত্র। ঘটনাচক্রে, তিন জন মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠকে গিয়েছিলেন একই গাড়িতে।কালীঘাটে পরিষদীয় দলের বৈঠকে শুক্রবার ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠলেন তৃণমূলের তিন বিধায়ক। এমনটাই তৃণমূলের এক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ফলতায় নির্বাচন। তার দু’দিন আগে ময়দান ছেড়ে দেওয়া ফলতার জাহাঙ্গির খানকে সামনে রেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুললেন কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। ওই সূত্রের খবর, জাহাঙ্গিরকে কেন বহিষ্কার করা হবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে ফলতা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরকে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ বলেও ঋতব্রত-সন্দীপন উল্লেখ করেছেন বলে খবর। অভিষেক এই প্রসঙ্গে দলের পোস্টের কথা উল্লেখ করলেও কুণাল দাবি করেন, মন খুলে কথা বলতে দিতে হবে। ঘরে বসে বৈঠক না-করে রাস্তায় নামতে হবে।

একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে বিধায়কদের বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলে লিখিত আকারে জানাতে হবে। কিন্তু সেই পথে না-হেঁটে মঙ্গলবারের বৈঠকে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন। এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফত।

ঘটনাচক্রে, ওই তিন বিধায়ক মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠকে গিয়েছিলেন একই গাড়িতে। সূত্রের দাবি, তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত জাহাঙ্গিরকে সামনে রেখে ঠারেঠোরে অভিষেকের দিকেই আঙুল তুলেছেন কুণালেরা। তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কেন ভোটের দু’দিন আগে ময়দান ছাড়লেও জাহাঙ্গিরকে এখনও বহিষ্কার করা হল না, সন্দীপন এবং ঋতব্রত সেই প্রশ্নও তুলেছেন বলে খবর। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে ফলতা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরকে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ বলেও কটাক্ষ করেছেন ঋতব্রত, সন্দীপন। বৈঠকে তিন বিধায়কের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেই সুবিধা পাওয়ার পরেও কেন ময়দান ছেড়ে চলে গেলেন জাহাঙ্গির!

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে জাহাঙ্গির ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ যদিও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক কিংবা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করেননি ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। যদিও তৃণমূলের তরফে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত। দলের নয়। সূত্রের খবর, সে কথা বৈঠকেও মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। কিন্তু তার পরেও কুণালেরা সুর চড়িয়েছেন বলে খবর।

বস্তুত, ফলতায় নির্বাচন ছিল গত ২৯ এপ্রিল। পরে যদিও নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। নির্বাচনের নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করে কমিশন। ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে ফলতায় প্রচারে গিয়ে অভিষেক জানিয়েছিলেন, জাহাঙ্গির তাঁকে সেখানে একটি শ্মশান করে দিতে বলেছেন। এর পরেই অভিষেক জানিয়েছিলেন, ৪ মে, ফলঘোষণার পরে যাঁদের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হবে, তাঁদের সেই শ্মশানে দাহ করা হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে ‘বিদ্রোহী’দের মুখে সেই প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছিল, এখন সেই শ্মশান কে তৈরি করবে, কাকে সেখানে দাহ করা হবে।

সূত্রের খবর, কুণাল বৈঠকে জানিয়েছেন, দলের অন্দরে মন খুলে কথা বলতে দিতে হবে। ঘরের ভিতরে অনেক বৈঠক হচ্ছে। এ বার রাস্তাতেও নামতে হবে। মনে করা হচ্ছে সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেই বার্তা দিতে চেয়েছেন কুণাল। রাজ্যে ভোটের ফলঘোষণার পরে মমতাকে কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দেখা গিয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে নিজে সওয়ালও করেছেন। কিন্তু অভিষেককে সে ভাবে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁর লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অধীনে থাকা ফলতা বিধানসভার ভোটের প্রচারেও তাঁকে যেতে দেখা যায়নি। সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠকে ১৫ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অনুপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে সাত জন জানিয়েছেন, তারা শারীরিক কারণে বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। সূত্রের খবর, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক জানান, তিনি দিল্লিতে কাজে রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে দিল্লি গিয়েছেন তিনি। তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন তিনি। যদিও এই জল্পনায় আনুষ্ঠানিক সিলমোহর নেই।

বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এখনও বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেয়নি বিধানসভার সচিবালয়। অষ্টাদশ বিধানসভা গঠনের পর প্রথম অধিবেশন হয়ে গেলেও কেন এখনও তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়নি, তা স্পষ্ট জানতে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) আবেদন করেন তিনি। বিধানসভার সচিবালয় জানায়, তৃণমূল পরিষদীয় দলের যে বৈঠকে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রস্তাবে ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত পত্রটি পাঠানো হোক। মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠকে সেই চিঠিতে ৬৫ জন বিধায়ক সই করেছেন বলে খবর। সূত্রের খবর, যে চিঠিতে বিধায়কেরা মঙ্গলবার সই করেছেন, তার তারিখ ছিল ৬ মে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *