‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসাতেই খুন চন্দ্রনাথ! তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে আমরা জানি, কিন্তু বলব না’, হত্যাকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ শমীক
বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, চন্দ্রনাথ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দূরদূরান্তেও কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি শুধু একজনের আপ্তসহায়ক। এ হেন চন্দ্রনাথকে হত্যার উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শমীক।শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এ বার তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। চন্দ্রনাথের খুনকে একটি পরিকল্পিত, প্রতিহিংসাজনিত, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করছেন তিনি। শমীকের কথায়, “সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, সে ভুল করছে।”
শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের দেহ বর্তমানে রাখা আছে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে। তার আগে সকালে বারাসত হাসপাতালে পৌঁছে যান শমীক। শুভেন্দু এবং বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহও পৌঁছেছেন বারাসত হাসপাতালে। বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, চন্দ্রনাথ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দূরদূরান্তেও কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি শুধু একজনের আপ্তসহায়ক। এ হেন চন্দ্রনাথকে হত্যার উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শমীক। দু’দিন পরে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ পর্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসছেন পশ্চিমবঙ্গে। সে কথা স্মরণ করিয়ে শমীকের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীকে বার্তা দেওয়ার জন্যই কি এই হত্যা করা হল? না কি বিজেপির বুকে আঘাত করার জন্য এটি করা হল?
শমীকের কথায়, “দুষ্কৃতীরা মঙ্গলগ্রহ থেকে এসে মারেনি। এত বড় যখন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, তখন স্থানীয় দুষ্কৃতীরা বা স্থানীয় (তৃণমূল) নেতারা জানত না, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।”
বিজেপির রাজ্য সভাপতি নিজে যে ভোটের পর থেকে দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিচ্ছেন, পুলিশকে দলীয় রং না দেখে পদক্ষেপ করার অনুরোধ করেছেন, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এ সবের পরেও চন্দ্রনাথের হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শমীক বলেন, “আমাদের কি ক্ষমতা নেই? সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, সে ভুল করছে। আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে পারি, কথা বলতে জানি। কিন্তু তা-ও বলছি না, বলব না। এটাই আমাদের অবস্থান।”
বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানান, শুভেন্দু যখন বুধবার রাতে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন, তখনও শুভেন্দু জানতেন না চন্দ্রনাথ নিহত। শুভেন্দু জানতেন, প্রচণ্ড রক্তপাত হচ্ছে চন্দ্রনাথের। ভেবেছিলেন, তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাবেন চিকিৎসার জন্য। শমীক বলেন, “আমি তাঁকে খবর দিলাম, চন্দ্রনাথ আর নেই। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তাঁকে এই ইনফরমেশনটা দিতে হল। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এটা বলার ভাষা আমার নেই।”
বারাসত-মধ্যমগ্রাম অঞ্চলে দুষ্কৃতী এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ শমীকের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সমস্ত অপরাধীকে ভয়মুক্ত করে দিয়েছে। অপরাধীরা মনে করছে এটা স্বর্গরাজ্য। বারাসত-মধ্যমগ্রাম সীমান্ত থেকে খুব একটা দূরে নয়। বিভিন্ন ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হয়েছে এখানে দিনের পর দিন। জাল আধার কার্ড, রেশন কার্ড তৈরির কাজ চলছে এই বারাসত-মধ্যমগ্রাম থেকে। ভারতের যে প্রান্তেই অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, তাদের সকলকেই জেরা করে জানা গিয়েছে— তারা কার্ড সংগ্রহ করেছে এই অঞ্চল থেকে।”

