আমার মন্ত্র হবে চরৈবেতি’! হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্কল্প, কেন্দ্রে ও রাজ্যে মিলেমিশে কাজ করে পশ্চিমবাংলায় মোদীর স্বপ্নপূরণ
শুভেন্দু জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে যে ‘গ্যারান্টি’ দিয়েছেন, তা পূরণ করবে নতুন বিজেপি সরকার। এর পরে শাহের সঙ্কল্পের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু।এ বার কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার এক সঙ্গে কাজ করবে। সেই কাজের মাধ্যমে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নপূরণ। আর এ ক্ষেত্রে তাঁর মন্ত্র হবে ‘চরৈবেতি’। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সংস্কৃত এই শব্দবন্ধের অর্থ হল ‘এগিয়ে চলো’। শুভেন্দু জানালেন, স্বামী বিবেকানন্দের এই মন্ত্র নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান। চলতি নির্বাচনে বাংলার ৪৬ শতাংশ মানুষ বিজেপি-কে ভোট দিয়েছে। পরের নির্বাচনে ৬০ শতাংশ মানুষকে পাশে আনতে হবে। এটাও তাঁর সঙ্কল্প বলে জানালেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে চার্জশিট প্রকাশ করে যে সঙ্কল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তা-ও পূরণ করবেন তিনি। আর এই কাজের ক্ষেত্রে তিনি ‘আমি নয়’ বারবার জোর দিয়েছেন ‘আমরায়’। জানিয়েছেন, সকলকে পাশে নিয়েই এগিয়ে যাবেন তিনি।
শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বৈঠক করে শুভেন্দুকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রথম ভাষণে শুভেন্দু মঞ্চে দাঁড়িয়ে একে একে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। তার পরেই তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে যে ‘গ্যারান্টি’ দিয়েছেন, তা পূরণ করবে নতুন বিজেপি সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘মোদীজি যে গ্যারান্টি দিয়েছেন, তা পূরণ করার কাজ বিজেপি সরকার করবে। আমি নয়, আমরা নীতিতে বিজেপি সরকার করবে। কথা কম কাজ বেশি বিজেপি সরকার করবে।’’
এর পরে শাহের সঙ্কল্পের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘চার্জশিট প্রকাশের দিন শাহ দু’টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাংলার মানুষকে। সন্দেশখালি থেকে আরজি কর হয়ে যত জায়গায় মা-বোন-কন্যাদের অত্যাচার করা হয়েছে, তা নিয়ে কমিশন বসবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।’’ সেই সঙ্গে শাহের আরও একটি সঙ্কল্পের কথাও মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘চার্জশিট প্রকাশের দিন শাহ বলেছিলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি যারা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে কমিশন বসানো হবে। সরকারি অর্থ যারা নয়ছয় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। কথা দিতে পারি, মন্ত্রিমণ্ডল, আগামী বিধায়ক দল, বিজেপি সরকার, বিচারধারার সঙ্গে যুক্ত লোকজন, পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক চেতনা সম্পন্ন নাগরিকদের নিয়ে সঙ্কল্প পূরণ করব। একটাই মন্ত্র হবে, স্বামীজির মন্ত্র— চরৈবেতি, চরৈবেতি, চরৈবেতি।’’
প্রচারে এসে মোদী, শাহ বার বার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষজন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা পাবেন। যেমন উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্য পায়। সেই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে শুভেন্দুর বক্তব্যেও। তিনি বলেন, ‘‘মোদীর মন্ত্র হোক সব কা সাথ, সব কা বিকাশ, সব কা বিশ্বাস, সব কা প্রয়াস! বাংলাকে মোদীজির আদর্শে নবনির্মাণ করে, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ ভাবে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করি, এটাই হোক আজকের দিন আমাদের সঙ্কল্প।’’
পশ্চিমবঙ্গের হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, রাজ্যের মানুষের ভয় কাটাতে সমর্থ হয়েছে বিজেপি। তাঁর কথায়, ‘‘শাহজি বলেছেন, আমরা ভয় কাটাতে পেরেছি। মোদীজি দিয়েছেন ভরসা। শাহজি, নীতি নবীনের নেতৃত্বে বিজেপি সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আসমুদ্রহিমাচলের কর্মীরা শমীকদা (শমীক ভট্টাচার্য)-কে সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা জিতেছি।’’ এর পরেই তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার লাইন উদ্ধৃত করেন, ‘‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।’’ শুভেন্দু জানান, এই ভয়কে জয় করতেই হবে। রাজ্যের মানুষের আশা, ভরসাও জয় করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘৪৬ শতাংশ নয়, আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক কাজ করে, সঙ্কল্প পত্র কার্যকর করে, মোদীজির স্বপ্ন পূর্ণ করে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষকে আমাদের সঙ্গে আনতে হবে। মা-বোনদের আনতে হবে পাশে। সোনার বাংলায় পরিণত করতে হবে।’’ আর এই কাজ তিনি একা নন, সকলে মিলেই করবেন। তাঁর কথায়, ‘‘আজ কথা কম কাজ বেশি। আমি নয় আমরা, আমরা আমরা।’’
