সর্ব স্তরের পুলিশকে একগুচ্ছ নির্দেশ! জামিনঅযোগ্য ধারায় অভিযুক্তদের ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে বলল কমিশন

0

নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, ভোটের সময় রাজ্যের সকল সরকারি কর্মচারী আদতে কমিশনের অধীনেই কাজ করে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবে কমিশন।

ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে নিচু স্তরের কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিল কমিশন। জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা নিয়েও কড়া বার্তা দিল তারা। জানিয়ে দিল, যাঁদের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। আগের নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল, সেগুলি দ্রুত শেষ করতেও বলল। পাশাপাশি জানিয়ে দিল, ভোটের সময় রাজ্যের সকল সরকারি কর্মচারী আদতে কমিশনের অধীনেই কাজ করে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবে কমিশন। পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়ে জানাল কমিশন।

মামলার নিষ্পত্তি

আগের নির্বাচনের সময় রাজ্যে যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল, সেগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। তারা জানাল, ওই মামলায় শীঘ্রই চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

এসডিপিও-দের নির্দেশ

যত জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা ছিল, সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এসডিপিও-দের। কমিশনের নির্দেশ, অবিলম্বে পলাতক অপরাধীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। তালিকা তৈরি করতে হবে ঘোষিত অপরাধীদেরও। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। প্রয়োজনে লুকআউট সার্কুলার জারি করতে হবে পুলিশকে। এসডিপিও-দের নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশের মহকুমা ও জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান করতে হবে।

ওসিদের দায়িত্ব

থানার ওসি বা এসএইচও-দের মাধ্যমে সব বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে সেই সব ‘গুন্ডা ও দুষ্কৃতীদের’, যাঁরা আগের নির্বাচনে অপরাধে জড়িত ছিলেন। এই নির্দেশ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে।

West Bengal Election 2026 | EC gives instructions on roles,  responsibilities of Police during vote in West bengal dgtl - Anandabazar

কমিশনের নিয়ন্ত্রণে

কমিশনের বক্তব্য, ভোটের সময় সকল সরকারি কর্মচারী কমিশনের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন। কমিশনের বার্তা, এই নির্দেশ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। যদি কেউ নিজের কাজ ঠিক ভাবে না করেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

থানাগুলির জন্য নির্দেশ

থানাগুলির উদ্দেশে ১৬টি নির্দেশ জারি করল নির্বাচন কমিশন। আগের নির্বাচনের সময় হওয়া সব অপরাধের তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সব জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। পলাতক আসামিদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনের সময় শান্তি বজায় রাখতে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঝামেলার ইতিহাস দেখে সম্ভাব্য গোলমালকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলার মধ্যে বেআইনি কাজ বন্ধ করতে তথ্য আদানপ্রদান করতে হবে। প্রার্থীদের মিটিং, মিছিল, সভায় নিরাপত্তা নিয়মিত নিশ্চিত করতে হবে। ‘ওজনদার’ বা ভিআইপি বা হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে হবে। হোটেল, লজ, ধর্মশালায় নিয়মিত চেকিং করতে হবে। পর্যবেক্ষক, নির্বাচন কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে। জেলা বা রাজ্যের সংযোগস্থলের নাকা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে। সব রাস্তা ও সংযোগ রাস্তাগুলিতে যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন রাখতে হবে। নাকা পয়েন্টে গাড়ি চেকিং জোরদার করতে হবে। নাকা পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা সব সময় চালু রয়েছে কি না দেখতে হবে। অপরাধপ্রবণ ও মাদক ব্যবসা রয়েছে এমন এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও টহল চালাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed