মমতার অবস্থানমঞ্চের সামনে নিজেদের দাবি লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে পার্শ্বশিক্ষকেরা! হস্তক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর, সরিয়ে দিল পুলিশ
হস্তক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর, সরিয়ে দিল পুলিশ
গত কয়েক দিন ধরেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছেন পার্শ্বশিক্ষকদের একাংশ। এ বার সেই নিয়ে তাঁরা প্রতিবাদের জন্য বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ধর্নাস্থলকে।ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে শুক্রবার বিক্ষোভ দেখালেন কয়েক জন পার্শ্বশিক্ষক। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে বলেন, ‘‘রাজনীতি করবেন না।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের সামনে গিয়ে এ সব করার কথাও বলেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের আটক করে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।শুক্রবার ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর প্রতিবাদে ওই ধর্না। সেখানে উপস্থিত হয়েছেন তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রীরা। মমতার মঞ্চের সামনে গিয়ে শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েক জন পার্শ্বশিক্ষক। গত কয়েক দিন ধরেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। এ বার সেই প্রতিবাদের জন্য তাঁরা বেছে নিলেন মমতার ধর্না মঞ্চকে। সেখানে প্ল্যাকার্ড হাতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তখনই পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে সরিয়ে নিয়ে যায়।
মঞ্চে বসে মমতা বলেন, ‘‘শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় এ সব করবেন না। এই জায়গা খোলামেলা বলে ভাববেন না, যা কিছু করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী, শাহ (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)-কে দেখান। ভ্যানিশ কুমারকে দেখান।’’ তার পরেই তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘‘ওদের আস্তে আস্তে অন্য জায়গায় বসিয়ে দিন।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পার্শ্বশিক্ষকেরা আদালতের নির্দেশে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। বৃহস্পতিবার কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছিল পার্শ্বশিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ। স্থায়ীকরণ এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ওই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল তারা। শিয়ালদহ থেকে এই মিছিল কলেজ স্ট্রিট আসার পরই পুলিশ আটকে দেয় বিক্ষোভকারীদের। ফলে সেখানেই শুরু হয় পথ অবরোধ ও অবস্থান বিক্ষোভ। পার্শ্ব শিক্ষকদের দাবি, ২০০৯ সালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আন্দোলনের মঞ্চে এসে স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধাপে ধাপে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার পর ১৫ বছর কেটে গেলেও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ পার্শ্বশিক্ষকদের।
২০২৪ সালের ১ মার্চ শিক্ষা দফতরের তরফে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গিয়েছিল নবান্নে। সেখানে প্রাথমিকে পার্শ্বশিক্ষকদের ২৮ হাজার টাকা, উচ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার টাকা বেতন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু তা এখনও ‘ঠান্ডা ঘরে’। পার্শ্বশিক্ষকেরা প্রভিডেন্ট ফান্ড, চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা-সহ বেশ কিছু দাবি তুলেছেন।

