সপ্তম বেতন কমিশন, শূন্য পদে নিয়োগ, চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি! রায়দিঘিতে তিন প্রতিশ্রুতি শাহের, তোপ মমতা এবং অভিষেককে
রাজ্যের সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার প্রশ্ন করেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা মমতাদিদির ১৫ বছরের সরকারকে অনেক সাহায্য করেছেন। কিন্তু যাঁরা সাহায্য করলেন, তাঁদের জন্য মমতাদিদি কী করলেন?’’
বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র আনুষ্ঠানিক সূচনা রবিবারই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সূচনাপর্বের দ্বিতীয় তথা শেষ দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুঝিয়ে দিলেন, ‘যাত্রা’র আসল সূচনা তিনিই করলেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্র’ (ইস্তাহার) এখনও ঘোষিত হয়নি। কিন্তু সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলায় রায়দিঘির জনসভা থেকে শাহ যা প্রতিশ্রুতি দিলেন, তা নির্বাচনী ইস্তাহারের চেয়ে কম কিছু নয়। সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা, আট মাসের মধ্যে সমস্ত শূন্য সরকারি পদ পূরণ করা এবং যুবসমাজের জন্য চাকরি পাওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া— ‘যাত্রা’ উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে এমন একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন শাহ।

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার প্রশ্ন করেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা মমতাদিদির ১৫ বছরের সরকারকে অনেক সাহায্য করেছেন। কিন্তু যাঁরা সাহায্য করলেন, তাঁদের জন্য মমতাদিদি কী করলেন?’’ শাহের কথায়, ‘‘সারা দেশে সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশন পেয়ে গিয়েছেন। এ বার অষ্টম বেতন কমিশন পেতে চলেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কর্মীরা এখনও ষষ্ঠ কমিশনের বেতন পাচ্ছেন।’’ এর পরেই তাঁর ঘোষণা, ‘‘রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়ে দিন। ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা সপ্তম বেতন কমিশনের বেতন দেব।’’
সরকারি কর্মী হতে যাঁরা ইচ্ছুক, তাঁদের জন্যও উল্লেখযোগ্য ঘোষণা করেছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘যুবকদের জন্য বিজেপি ভাল খবর এনেছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সকল শূন্য সরকারি পদে নিয়োগ হবে, যুব সমাজ চাকরি পাবেন ঘুষ না-দিয়ে।’’ সরকারি পদ তথা চাকরির সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে শাহ ঘোষণা করেছেন। তাঁর আশ্বাস, ‘‘অনেক স্থায়ী পদ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির সরকার গড়ে দিন। দু’মাসে আমরা সব লুপ্ত পদ ফিরিয়ে আনার কাজ করব।’’
