রাজ্য বিধানসভার নতুন স্পিকার হলেন রথীন্দ্র বসু, কোচবিহারের বিজেপি বিধায়ক ধ্বনি ভোটে নির্বাচিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
শাসকদল বিজেপির তরফে স্পিকার হিসাবে রথীন্দ্রের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। শুক্রবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রস্তাব দেন। তা সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ।বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হলেন রথীন্দ্র বসু। তিনি কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক। এই প্রথম বার বিধানসভা ভোটে জিতেছেন তিনি। শুক্রবার সকালে বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তদারকিতে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমেই স্পিকারের কুর্সিতে বসেছেন রথীন্দ্র।শাসকদল বিজেপির তরফে স্পিকার হিসাবে রথীন্দ্রের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। শুক্রবার বিধনাসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রস্তাব দেন। তা সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ। ধ্বনি ভোটে স্পিকার নির্বাচনে জয়ী হন রথীন্দ্র। বন্দে মাতরম্ গান দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়েছে। তবে স্পিকার নির্বাচন পর্বে তৃণমূল বিধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাঁরা সভায় ফেরেন। বিধানসভার সদস্যদের সমর্থনের পর মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে রথীন্দ্র স্পিকারের কুর্সিতে বসেন। তৃণমূল বিধায়কেরা এই নির্বাচনের বিরোধিতা করেননি। প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রথীন্দ্রকে শুভেচ্ছা জানান।
সভার নিয়ম মেনে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রথমে বলার অনুমতি দেন স্পিকার। রথীন্দ্রকে স্বাগত জানান শুভেন্দু। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ বছর এই বিধানসভা রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য গঠনমূলক ভাবে কাজ করতে পারবে। বিরোধীরা বক্তব্য পেশের সুযোগ পাবেন। তবে প্রথম থেকেই বিধানসভার কার্যপ্রণালী বানচাল করার প্রয়াস থেকে বিরোধী বিধায়কেরা বিরত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর পর স্পিকারের অনুমতিতে বলতে ওঠেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব। এর পর একে একে বিভিন্ন দলের বিধায়কদের বলার সুযোগ দেওয়া হয়। স্পিকার রথীন্দ্রকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিধানসভায় ভাষণ দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানাও।
রথীন্দ্র প্রথম বারের বিধায়ক। তিনি পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। দীর্ঘ দিন তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। সাধারণত স্পিকার হিসাবে আইনজ্ঞ বা পেশায় আইনজীবী কাউকেই মনোনীত করে রাজনৈতিক দলগুলি। রথীন্দ্রকে স্পিকার পদপ্রার্থী করে সেই অলিখিত নিয়ম ভেঙেছে বিজেপি। সর্বসম্মতিক্রমে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হলেন।
