অবশেষে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করল মুখ্যমন্ত্রী মমতার

0

বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগরে বিজেপির রাজ্য দফতরে যান নির্যাতিতার মা। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায়। সেখানে তিনি রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেন

প্রচারে তাঁর নিশানা হবে তৃণমূল। রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করাই তাঁর উদ্দেশ্য। বিজেপি তাঁকে পানিহাটির প্রার্থী করার পরে বৃহস্পতিবার প্রথম প্রচারে নেমে এমনটাই জানিয়ে দিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। রাজ্যে মহিলাদের ‘সুরক্ষা নেই’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রচার আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করার আগে স্থানীয় মন্দিরে যাওয়ার কথা রয়েছে নির্যাতিতার মায়ের। বৃহস্পতিবার তাঁর পানিহাটির বাড়িতে যাওয়ার কথা বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগরে বিজেপির রাজ্য দফতরে যান নির্যাতিতার মা। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায়। সেখানে তিনি রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেন। কটাক্ষ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে, মেয়েদের সুরক্ষা নেই। সম্মান নেই। কোনও কিছু ঘটলে বলা হয়, রাতে মেয়েরা বাইরে বেরোবে না। নাইট ডিউটি দেওয়া হবে না। এ সব কথা যিনি বলেন, তিনি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী!’’ তার পরেই তিনি জনসাধারণের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, ‘‘সকলে ভয় না পেয়ে অধিকারগুলির বিষয়ে সচেতন হও।’’

আরজি করে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ এবং খুনের প্রতিবাদে রাজ্যে পথে নেমেছিলেন বহু মানুষ। নির্যাতিতার মা মনে করেন, আন্দোলনে শামিল হওয়া সেই মানুষজনকে পাশে পাবেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববাসী। রাজ্যবাসী ছিলেন। আমার মেয়ের মৃত্যুকে যে ভাবে তাঁরা নিজের ঘরের মৃত্যু মনে করেছিলেন, সেই ভাবেই তাঁরা আমার পাশে থাকবেন। তৃণমূলকে মূল সমেত উপড়ে ফেলতে পারব। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার হবে।’’ সেই আন্দোলনে শামিল হওয়া কলতান দাশগুপ্ত এখন পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী। প্রতিপক্ষ হলেও কলতানের বিরুদ্ধে কিছু বলবেন না বলেই জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা। তিনি বলেন, ‘‘কলতান আমার ছেলের মতো, আন্দোলন করেছে। ওর বিরুদ্ধে কিছু বলব না।’’

নির্যাতিতার মা মনে করেন, তিনি ভোটে জয়ী হলে আদতে জিতবেন পানিহাটিবাসী। ‘থ্রেট কালচার’-এর বিরুদ্ধে হবে সেই জয়। তাঁর কথায়, ‘‘পানিহাটিবাসীকে বলব,আপনারা জিতবেন, আসুন আমার পাশে। (আমি জিতলে) এটা পানিহাটিবাসীর জয় হবে।’’ এর পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আবার কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ভয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী থ্রেট কালচার চালান। তার একটা অংশ হল পানিহাটির এক পরিবার। ঘোষ পরিবার। পানিহাটিবাসীকে ভয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়। তাদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে পানিহাটিবাসীকে বলব, সরব হবেন। নিজেদের লড়াই নিজেরা লড়বেন।’’

বৃহস্পতিবার পানিহাটির দু’-একটি মন্দিরে পুজো দেওয়ার কথা রয়েছে নির্যাতিতার মায়ের। সঙ্গে থাকবেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তার পরে বিধানসভা কেন্দ্রের কয়েক জায়গায় প্রার্থীর নাম হিসাবে দেওয়ালে লেখার কথা রয়েছে। তাঁর বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে শুভেন্দুর।

নির্যাতিতার মা জানিয়েছিলেন, তিনি নিজেই পানিহাটিতে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বিজেপির কাছে। আগেই তিনি বলেছিলেন, ‘‘অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’ বিজেপিও সেই কথা স্বীকার করে। শুভেন্দু জানান, তাঁদের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত নির্যাতিতার মায়ের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে বিজেপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed